বিশ্বব্যাপী কমেছে খাদ্যপণ্যের দাম

বিশ্বব্যাংকের খাদ্যপণ্য মূল্য সূচক চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কমে গিয়েছিল ২ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের খাদ্যপণ্য মূল্য সূচক চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কমে গিয়েছিল ২ শতাংশ। গত এপ্রিলেও এ দরপতনের ধারা অব্যাহত ছিল। সব মিলিয়ে চলতি বছরের প্রথম চার মাসে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের দাম কমেছে ৪ শতাংশ। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিশ্বের প্রধান রফতানিকারক দেশগুলোয় শস্য উৎপাদন ভালো হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে শস্যের দাম সম্প্রতি নিম্নমুখী হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের খাদ্যশস্যের মূল্য সূচক কমেছে ৮ শতাংশ, যা খাদ্যপণ্যের দাম কমার পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে।

তারা আরো জানান, ভোজ্যতেল ও তেলজাত পণ্যের দাম কমে যাওয়া এবং অন্যান্য খাদ্যপণ্যের প্রায় ৩ শতাংশ পতনও সামগ্রিক মূল্য হ্রাসে ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি বাণিজ্য উত্তেজনার ফলে বৈশ্বিক চাহিদার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা মূল্যপতনের প্রবণতাকে আরো ত্বরান্বিত করেছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ মৌসুমে বৈশ্বিক শস্য সরবরাহ রেকর্ডে বাড়তে পারে। এ সময় বিশ্বব্যাপী ৩৬০ কোটি টন শস্য উৎপাদন হতে পারে। যদিও এটি আগের দুই দশকের বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধির তুলনায় ধীর।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, গমের সরবরাহ দীর্ঘমেয়াদি গড় প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে এসেছে। ভুট্টার বাজারও সরবরাহ ঘাটতির সাম্প্রতিক ধাক্কা কাটিয়ে কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছে। অন্যদিকে চাল ও সয়াবিনের ক্ষেত্রেও সরবরাহ সামনের দিনগুলোয় আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ মৌসুমে বৈশ্বিক ভোজ্যতেলের সরবরাহ ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। এ বৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা রাখবে সয়াবিন তেলের বাড়তি সরবরাহ। তবে সূর্যমুখী, সরিষা ও নারিকেল তেলসহ অন্যান্য প্রধান ভোজ্যতেলের সরবরাহ ২০২৪-২৫ সালে কমেছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে কিছুটা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা থাকলেও তা ঐতিহাসিক গড়ের তুলনায় কম থাকবে।

পূর্বাভাসে বিশ্বব্যাংক জানায়, ২০২৫ সালে খাদ্যপণ্যের দাম এর আগের বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ কমতে পারে। ২০২৬ সালে তা আরো কমে স্থিতিশীল থাকবে। চলতি বছর বিশ্বব্যাংকের মূল্য সূচকে শস্যের দাম ১১ শতাংশ, ভোজ্যতেল ও খৈলজাত পণ্যের ৭ শতাংশ এবং অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দাম ৫ শতাংশ কমতে পারে। ২০২৬ সালে এসব পণ্যের দাম তুলনামুলক স্থিতিশীল থাকবে।

তবে এ পূর্বাভাসে বেশকিছু ঝুঁকির কথাও জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলো হলো প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি, চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া, বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তা ও জ্বালানি হিসেবে বায়োফুয়েলের চাহিদা। এসব পরিস্থিতি মূল্য প্রবণতা নির্ধারণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

এছাড়া বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের জন্য ‘স্টক-টু-ইউজ রেশিও (সরবরাহ বনাম চাহিদার একটি সূচক)’ ২০২৫-২৬ মৌসুমে আরো কমে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে, যা গত এক দশকব্যাপী নিম্নমুখী প্রবণতার ধারাবাহিকতা। তবে এটি এখনো ২০১৫ সালের আগের নিম্নমুখিতার তুলনায় কিছুটা বেশি।

আরও